ঢাকার দর্শনীয় স্থান

ঢাকার দর্শনীয় স্থান পর্ব এক

ঢাকার দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে অন্যতম হল জাদুঘর, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, আহসান মঞ্জিল জাতীয় সংসদ বিজ্ঞান জাদুঘর ইত্যাদি।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার :

এটি ঢাকা মেডিকেলের আউটডোর গেটের পাশে অবস্থিত। এটি মিনার বাঙালি জাতীয়তার প্রতীক। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে
শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে এই সৌধটি।

প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার জনতা এখানে ফুলের তোড়া দিয়ে তাদের শ্রদ্ধা জানান। এই অনুষ্ঠান মধ্যরাত থেকে শুরু হয়ে সারাদিন চলে।
বর্তমানে সারা বিশ্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে।

সোহরায়ার্দী উদ্যান :

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই উদ্যানেই আত্মসমর্পন করেছিল।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পূর্বে রেসকোর্স হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এটি একটি বিশাল চমৎকার পার্ক।
এখানে রয়েছে সারি সারি সবুজ গাছ এবং বিভিন্ন রং এর ফুলের সমারোহ। এটি ঢাকা শহরের লক্ষ্মীবাজারে অবস্থিত।

জাতীয় স্মৃতিসৌধ :

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ৩০ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগের স্মৃতিকে অম্লান করে রাখার জন্য নির্মাণ করা হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
সাভারে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল মাত্র ৮৯ দিন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ছিল কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স এন্ড কন্সট্রাকসন লিঃ।
এই স্মৃতিসৌধটির নকশাতৈরি করেন প্রকৌশলী মইনুর হোসেন।

জাতীয় জাদুঘর :

এটি ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। ঢাকা জাদুঘর ১৯১৩ সালে প্রতিষ্টিত হয়। বর্তমানে এটি জাতীয় জাদুঘর ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দর্শনীয় স্থান।
এখানে চারটি দালানে রয়েছে ৪০টি গ্যালারি। এবং এটিকে চারটি বিভাগে সাজানো হয়েছে। যথা-প্রাকৃতিক ইতিহাস, ইতিহাস ও সর্বোৎকৃষ্ট শিল্প,
পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির শোভাপ্রদ শিল্পের বিজ্ঞান সম্মত বিবরণ এবং সমসাময়িক শিল্প ও বিশ্ব সভ্যতা।

একানে হিন্দু, বৌদ্ধ ও মুসলিম ইতিহাসের প্রচুর সংখ্যক ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্প রয়েছে। এছাড়া এখানে প্রাচীন মুদ্রা, ধাতব মূর্তি, শিল্পের বই, বিশ্ববিখ্যাত
ঢাকাই মসলিম, নকশী কাঁথা, চমৎকার হস্তশিল্প, শহর ও গ্রাম জীবনের আদর্শ এবং সমসাময়িক ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পেরও প্রচুর সংগ্রহ রয়েছে।
সর্বোপরি  বীরত্বপূর্ণ মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবান বিষয়ও রয়েছে এখানে।
এটি খোলা থাকে শনি থেকে বুধবার, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যে ৭টা পর্যন্ত এবং বন্ধ থাকে বৃহস্পতিবার।
প্রবেশ ফি ১০ টাকা। যোগাযোগ-ফোন : ৮৮০-২-৮৬১৯৩৯৭-৯৯।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর :

এটি শহরের সেগুনবাগিচায় অবস্থিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে নির্মিত হয়েছে ঢাকার দর্শনীয় স্থান এই জাদুঘর। এখানে রয়েছে যুদ্ধকালীন সময়ে
মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন বিষয়ের বিরল ছবি। এছাড়াও আছে স্বাধীনতাভিত্তিক নানারকম প্রকাশনা, অ্যালবাম, পোস্টার, মাল্টিমিডিয়া সিডি,
অডিও, চলচ্চিত্র, ডাকটিকিট, পতাকা, শোপিস, টি-শার্ট, মগ ইত্যাদি। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে।
ঠিকানা : ৫, সেগুন বাগিচা, ঢাকা। ফোন : ৯৫৫৯০৯১।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর :

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি এখন ঢাকার দর্শনীয় স্থান বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর। ২ টাকার টিকিট কেটে ঢুকতে হয় এখানে।
ঠিকানা : ধানম-ি, রোড নং-৩২ (পুরানো), ঢাকা।
১৯৯৪ সালের ১৪ আগস্ট এক অনাড়ম্বর অনুষ্টানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হাতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি তুলে দেন বঙ্গবন্ধু কন্যা
শেখ হাসিনা-শেখ রেহানা। গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলেই দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর বিরাট প্রতিকৃতি। চিনতলায় বারান্দা পেরিয়ে প্রথম ঘরটি ছিল ড্রইং রুম।
এই ঘরে বসেই বঙ্গবন্ধু তার নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘন্টা মিটিং করতেন। এখন তা ছবির গ্যালারি। শেখ মুজিবুর রহমানের বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পথটি দৃশ্যমান
হয় এই ছবির গ্যালারিতে।

এছাড়াও এই জাদুঘরে রয়েছে দেখার ও ইতিহাস জানার অনেক কিছু। যে ঘরে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের
অন্যান্যদের হত্যা করা হয়েছে দেখা যাবে সেই ঘরটিও। বুলেটের চিহ্নগুলো রয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জড়ানো চিহ্ন, তাঁর রক্তাক্ত পোশাক কাঁচ দিে ঢেকে রাখা হযেছে।
বঙ্গবন্ধু জাদুঘর খোলা থাকে বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬া পর্যন্ত। বুধবার সাপ্তাহিক ছুটি।
সরকারি ছুটির দিনেও খোলা থাকে জাদুঘর।

আহসান মঞ্জিল জাদঘর :

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘরে হেঁটে একটু দক্ষিণে গেলেই চোখে পড়ে অতীতের সোনালী গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বুকে ধারণ করে গর্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে
আহসান মঞ্জিল। এটি ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান। ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন আহসান মঞ্জিল। এটি নবাব বাড়ি যা অতীতের অনেক ঘটনার নীরব সাক্ষী।
১৮৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আহসান মঞ্জিলের মূল ভবন-যা স্থাপত্য শৈলীর অনবদ্য নিদর্শন।
আহসান মঞ্জিলে রয়েছে ৩১টি কামরা যা বহুদূর থেকে সহজেই নজর কাড়ে।

আহসান মঞ্জিলের ২৩টি গ্যালারিতে প্রদর্শিতহ হয় নবাবের ব্যবহৃত বিভিন্ন তৈজসপত্র, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র, আসবাবপত্র, গার্হস্থ্য সামগ্রী ও চিত্রকর্ম প্রভৃতি।
দেশের স্থাপত্য ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এবং ঐতিহাসিক সৌন্দর্যের স্মৃতিস্তম্ভ এই যাদুঘরটি দেশী বিদেশী পর্যটকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়।
উজ্জ্বল লাল গোলাপী রঙের এই অট্টালিকা নির্মাণ করেছিলেন ফরিদপুরের জমিদার এনায়েত উল্লাহ। পরে তা কিনে নেন ফরাসি বণিকরা।
তাদের কাছ থেকে ১৮৩৫ সালে এর মালিক হন ঢাকার নবাব পরিবারের আদি পুরুষ আলিমুল্লাহ। ১৮৭২ সালে নবাব আবুর গণি এটি পুননির্মাণ করেন।
১৮৯৩ সালের দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল আহসান মঞ্জিলের গম্বুজটি।

লোকশিল্প জাদুঘর :

লোক শিল্প যাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৫ সালে। এটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান -ে যেখানে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় ঐতিহ্য, ব্যতিক্রমী ডিজাইনের
প্রদর্শনী শিল্প ও হস্তশিল্প। এখানে রয়েছে দেশীয় পদার্থে তৈরি লোকবিষয়ের প্রচুর সংগ্রহ-যার সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক মূল্য অপরিসীম।
এগুলো নিঃসন্দেহে শিল্পী ও কারিগরের সুনিপুণ দক্ষতা ও অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন।
এটি খোলা থাকে শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ফোন-৮৮০-২-৯৭১৬৯৬০।

বিজ্ঞান জাদুঘর :

এটি ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।  এই যাদুঘর সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আধুনিক শিক্ষা কেন্দ্র।

জাতীয় সংসদ :

জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে অন্যতম । আধুনিক নির্মাণশৈলী ও নান্দনিক স্থাপনা হিসেবে বিশ্বের সেরা কয়েকটি স্থাপত্য নিদর্শনের একটি
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন। ভবনটির চমৎকার নকশা প্রণয়ন করেন বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই আই কান্ ১৯৬৩ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে শেষ হয়
১৯৮৩ সালে। এর অবস্থান ঢাকার শেরে বাংলা নগরে। বিভিন্ন পর্যটকদের পদচারনায় এখানে সর্বদাই বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

জাতীয় কবির সমাধি :

এটি বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি। তিনি ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট মৃত্যুবরছ করেন।
এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত।

শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ :

এটি মিরপুরে অবস্থিত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সব বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছে তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছে এই সৌধটি।

বাহাদুর শাহ পার্ক :

এটি পুরনো ঢাকায় অবস্থিত। এটি মূলত নির্মিত হয়েছিল ঔপনিবেশিক সময়ে এবং রানী ভিক্টোরিয়ার নামানুষারে এর নাম ছিল ভিক্টোরিয়া পার্ক।
বর্তমানে এটি পরিচিত ‘বাহাদুর শাহ পার্ক’ নামে। বাহাদুর শাহ ১৮৫৭-৫৯ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন।
এখানে রয়েছে ১৯৬২ সালে নির্মিত একটি বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ। এটি একটি চমৎকার পার্ক যেখানে পর্যটকগণ প্রকৃতিকে অবলোকন করতে পারেন।

পুরনো হাইকোর্ট দালান :

এটি মূলত তৈরি হয়েছিল ব্রিটিশ গভর্নরের আবাস হিসেবে। এটি ইউরোপীয়ান এবং মোঘল স্থাপত্যের মিশ্রণে তৈরি একটি চমৎকার দালান।

ঢাকার দর্শনীয় স্থান বঙ্গভবন :

এটি প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল আবাস। শহরের মাঝখানে অবস্থিত। এখানে দালান এবং বাগানের চমৎকার সৌন্দর্য অবলোকন করা যায়।
বলদা গার্ডেন : এটি ১৯০৪ সালে স্থাপিত একটি চমৎকার বাগান। এটি অবস্থিত ঢাকার ওয়ারীতে খ্রিস্টান গোরস্থানের উল্টোদিকে।

এই বাগানে রয়েছে দেশী-বিদেশী প্রচুর গাছের সমারোহ যা প্রকৃতিবিদ এবং পর্যটকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। এখানে রয়েছে প্রায় ১৫০০ উদ্ভিদ-যার বেশির ভাগই
আনা হয়েছে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশ থেকে। এখানকার পূর্ণ প্রস্ফুটিত পদ্ম ফ’ল যে চমৎকার দৃশ্যের অবতারণা করে তা প্রকৃতি প্রেমিকদের জন্য সত্যিই অপূর্ব।
খোলা থাকে শনি থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শুক্রবার বন্ধ। প্রবেশের জন্য টিকিট গেইটেই পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন:
বিদেশে স্টুডেন্ট ভিসা, মেডিকেল ভিসাজব ভিসা সংক্রান্ত ১২ বছরের অধিক সময় ধরে কাজ করছে ট্রাস্ট গ্লোবাল স্টাডি লিঃ ও অ্যামেজিং গ্লোবাল
ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস । ঠিকানা: হেড অফিস- R H Home Centre, Room 511 (5th Floor, 74/B/1 Green Rd, Dhaka 1215, Bangladesh.
মোবাইল: ০১৭৯০৫৫০০০০, টেলিফোন: ০২৪৪৮১৫২৮১


সংকলনে: আবু জাফর রাজুভিসা কনসালটেন্ট ( ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর)।
লেখাটি সর্বশেষ আপডেট করা হয়েছে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১
বিজ্ঞপ্তি: লেখাটি হুবহু কপি না করার জন্য অনুরোধ করছি। সাহায্যের জন্য বা রেফারেন্স হিসেবে অংশ বিশেষ ব্যবহার করতে পারেন।
সে ক্ষেত্রে এই পোস্টের লিংক প্রদানের অনুরোধ করছি। লেখকের কষ্টের মূল্য প্রদানে আপনার বিবেকের প্রতি আরজি রইল।

লেখাটিতে উপকার পেয়েছেন? আবার পড়তে চান? তাহলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.