পাসপোর্ট করার নিয়ম

পাসপোর্ট করার সঠিক নিয়ম ও ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ২০২৩

যারা নতুন পাসপোর্ট করার সঠিক নিয়ম জানতে চান, কিন্তু সঠিক ও সহজ নিয়মে কিভাবে ও কি কি ডকুমেন্ট লাগবে তা জানতে চান তাদের জন্যই
এই পাসপোর্ট করার নিয়ম লেখাটি খুব কাজে লাগবে। নিচে বিস্তারিত দেওয়া হল। আগে ভালোভাবে পড়ুন এর পর নিজে নিজে না করতে
চাইলে নিচে দেওয়া হোয়ার্টএ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে অনলাইনে আবেদন সেবা নিন।

পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া

পাসপোর্ট করার প্রক্রিয়া অনেকের কাছে বেশ জটিল মনে হলেও আসলে এত জটিল কিছু নয়। দেশে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। তাই প্রচলিত এমআরপি MRP
(Machine Readable Passport) এর বদলে ই পাসপোর্ট সেই জায়গা দখল করেছে। আর আজকের এই আর্টিকেল তাদের জন্য যারা প্রথম পাসপোর্ট করতে চাচ্ছেন।
পাসপোর্ট করার ধাপসমূহ যা ক্রমান্বয়ে নিচে দেওয়া হল।

ই-পাসপোর্ট আসলে কি?

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় আর একধাপ এগিয়েছে ই-পাসপোর্ট প্রক্রিয়া। এর ফলে আর এয়াপোর্টে লাইনে দাড়াতে হবে না। কারণ যাত্রীকে সাথে সাথেই
সনাক্ত করা যাবে এই ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে। নিচে এ পাসপোর্ট করার জন্য প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হল,

ই-পাসপোর্ট দেখতে বর্তমানে চলমান মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (MRP) মতই। ই-পাসপোর্টে আগের পাসপোর্টের শুরুতে বিদ্যমান পাসপোর্টধারীর ব্যক্তিগত তথ্যের দুইটি পৃষ্ঠার পরিবর্তে পলিমারের তৈরি একটি চিপের মধ্যে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ই-পাসপোর্ট এর ধাপ সমূহ

ধরুন আপনি ই-পাপোর্ট আবেদন করতে চান, কিন্তু কিছুই জানেন না। তাদের জন্যই মূলত নিচের স্টেপ গুলি যথাযথভাবে ফলো করলেই হবে।
ধাপে ধাপে প্রত্যেকটি কাজ করুন, খুব সহজ মনে হবে পাসপোর্ট করা।

  1. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট রেডি করা
  2. অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন ফর্ম পূরণ
  3. অনলাইনে আবেদন ফরম ও ব্যংক জমা স্লিপ প্রিন্ট
  4. ব্যাংকে পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়া
  5. অতপর আবেদন ফর্মটি ও ব্যাংকজমা স্লিপসহ পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়া
  6. পুলিশ ভেরিফিকেশন
  7. মোবাইলে ও ইমেইলে ম্যাসেস গ্রহণ ও
  8. পাসপোর্ট সংগ্রহ করা

দালাল ছাড়া কি ই- পাসপোর্ট করা সম্ভব?

অনেকেই মনে করে দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করা যায়। গেলেও অনেক ঝামেলা হয়, এই কথা পুরোপুরি সঠিক না। বর্তমানে অযৌক্তিক  হয়রানি অনেক কমে গিয়েছে আর সরকারিভাবে পাসপোর্টের পুরো প্রক্রিয়াও অনেক সহজ করা হয়েছে । তাই দালালের মাধ্যমে বাড়তি টাকা খরচ না করে নিজেই নিজের ই-পাসপোর্টের কাজ গুলো করে নিতে পারবেন। শুধু অনলাইনে আবেদন আপনি যদি কাঁচা হন
তবে কোন কম্পিউটারের দোকান থেকে অনলাইন আবেদনটি করিয়ে নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ অপারেটরের সাহায্য নিতে হবে। যে সঠিক ও নির্ভূলভাবে আপনার নাম ঠিকানা পুরণ করবে। তবে কোনও মাধ্যম ছাড়া নিজে পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে অবশ্যই হাতে সময় নিয়ে পাসপোর্টের কাজ শুরু করবেন।অবশ্য জরুরী প্রয়োজনে নিজে না করে অন্য কোনও মাধ্যমের সাহায্য নিয়েই পাসপোর্ট করা ভালো। আর হা, পাসপোর্টের ফর্ম ফিল আপা করার আগে ও ফিল আপ করার পরে পুরো ফর্মের কয়েক কপি ফটোকপি করে রাখবেন।

অনলাইন আবেদন : মাত্র ৩০০ টাকা সার্ভিস ফি দিয়ে অনলাইন আবেদন ফরম সেবা পেতে যোগাযোগ করুন 01711981051 অথবা নিচের হোয়াটস আ্যাপে।

ই-পাসপোর্ট এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনে পূরণ করা যাবে।
  • ই-পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে কোন কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না।
  • ই-পাসপোর্ট ফরমে কোন ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না।
  • জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ অনুযায়ী আবেদন পত্র পূরণ করতে হবে।
  • অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারি যার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাই, তার পিতা অথবা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
  • জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ নিচের নিয়মে বয়স অনুসারে দাখিল করতে হবে-
    (ক) ১৮ বছরের নিচে হলে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ।
    (খ) ১৮-২০ বছর হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) অথবা অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ হলেও চলবে।
    (গ) ২০ বছরের উর্ধে হলে জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID) আবশ্যক । তবে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) সনদ গ্রহণযোগ্য হবে।
  • অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে তারকা চিহ্নিত ক্রমিক নম্বরগুলো অবশ্যই পূরণীয়।
  • আবেদন বর্তমান ঠিকানা সংশ্লিষ্ঠ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস/বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করতে হবে।
  • ১৮ বছরের নিম্নের এবং ৬৫ বছরের ‍উর্ধ্বে সকল আবেদনে ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ০৫ বছর এবং ৪৮ পৃষ্ঠার।

পাসপোর্ট করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

নিচের তথ্য গুলো তাদের জন্য যারা মেশিন রিডাবল পাসপোর্ট এর ব্যাপারে চিন্তা করেন। এর জন্য বাংলাদেশ সরকারের
পাসপোর্ট ডট গভ ডট বিডি নামক ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে। পাসপোর্ট করতে যে সকল ডকুমেন্টস সম্পর্কে ধারণা লাগবে তার একটি তালিকা নিচে পড়ুন,

পাসপোর্ট ফরম পুরণ প্রক্রিয়া

সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাষিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা/কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবি ও তাদের নির্ভরশীল স্ত্রী/স্বামী এবং সরকারি
চাকুরীজীবিগণের ১৫ (পনের) বৎসরের কম বয়সের সন্তান, ৫ (পাঁচ)/১০ (দশ) বৎসরের অতিক্রান্ত, সমর্পণকৃত (সারেন্ডারড) দের জন্য একটি ফরম ও
অন্যান্যদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টের জন্য ২ (দুই) কপি
পূরণকৃত পাসপোর্ট ফরম দাখিল করতে হবে।

বয়স ১৫ বছরের কম হলে করনীয়

অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৫ বছরের কম) আবেদনকারীর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পিতা ও মাতার একটি করে রঙিন ছবি (৩০ x ২৫ মিঃমিঃ) আঠা দিয়ে লাগানোর পর সত্যায়ন করতে হবে।

পাসপোার্ট আবেদন ফরমের সাথে কি কি জমা দিতে হবে?

জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক টেকনক্যাল সনদসমূহের (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) সত্যায়িত ফটোকপি।
তবে সত্যায়ন কারা করবেন তাদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল।

পাসপোর্ট এর জন্য ছবি সত্যায়ন করতে কার কাছে যাবেন?

যে সকল ব্যক্তিগণ পাসপোর্টের আবেদনপত্র ও ছবি প্রত্যায়ন ও সত্যায়ন করতে পারবেন – সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, ডেপুটি মেয়র ও কাউন্সিলরগণ, গেজেটেড কর্মকর্তা,
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও পৌর কাউন্সিলরগণ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,
বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, নোটারী পাবলিক ও আধাসরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত
সংস্থার জাতীয় বেতন স্কেলের ৭ম ও তদুর্ধ্ব গ্রেডের গ্রেডের কর্মকর্তাগণ।

সরকারী চাকুরীজীবী বা প্রযোজ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে করনীয়

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি(NOC) দাখিল করতে হবে।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট লাভের যোগ্য আবেদনকারীগণকে পূরণকৃত ফরম ও সংযুক্তিসমূহ পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে জমা দিতে হবে।

সাধারণ নিয়ম

  • শিক্ষাগত বা চাকুরীসূত্রে প্রাপ্ত পদবীসমূহ (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ডক্টর, পিএইচডি ইত্যাদি) নামের অংশ হিসেবে পরিগণিত হবে না।
    ফরমের ক্রমিক নং ৩ পূরনের ক্ষেত্রে, একাধিক অংশ থাকলে প্রতি অংশের মাঝখানে ১টি ঘর শূন্য রেখে পূরণ করতে হবে।
  • আবেদনকারীর পিতা, মাতা, স্বামী/স্ত্রী মৃত হলেও তার/তাদের নামের পূর্বে ‘মৃত/মরহুম/Late’ লেখা যাবে না।
  • দত্তক/অভিভাবকত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনের সাথে সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হতে জারিকৃত আদেশ দাখিল করতে হবে।
  • প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসমূহ (যেমন: ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) আপলোড/সংযোজন করতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক জিও (GO)/এনওসি (NOC)/ প্রত্যয়নপত্র/ অবসরোত্তর ছুটির আদেশ (PRL Order)/ পেনশন বই আপলোড/সংযোজন করতে হবে যা ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের নিজ নিজ Website এ আপলোড থাকতে হবে।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিবাহ সনদ/নিকাহনামা এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তালাকনামা দাখিল করতে হবে।
  • দেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফি এর উপর নির্ধারিত হারে ভ্যাট (VAT) সহ অন্যান্য চার্জ (যদি থাকে) অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হবে।
    বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রেও সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি প্রদেয় হবে।

আরও পড়ুন: সহজে পাসপোর্ট করার ধাপ সমূহ

ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র লাগবে?

নিচের কাগজ গুলো অনলাইন আবেদন করার সময় সামনে রাখতে হবে যাতে করে কোন নামের বানান ভূল না হয়। এবং তারাতারি সঠিকভাবে
অনলাইন আবেদনটি সম্পন্ন করা যায়।

  1. অনলাইনে ই-পাসপোর্টের প্রাথমিক আবেদনের জন্য কোন কাগজপত্র লাগবে না। অবশ্য ফরমটি পুরনের জন্য নিচের কাগজগুলো দিতে হবে,
  2. জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি। বয়স ২০ বছরের নিচে হলে জন্মনিবন্ধন কপি হলেও চলবে।
  3. পিতা ও মাতার এনআইডি অর্থাৎ ভোটার আইডি কার্ড লাগবে। ফরম পুরনের সুবিধার জন্য এটি লাগবে।
  4. ইমারজেন্সি যোগাযোগ করার জন্য একজন ব্যক্তির নাম ইংরেজিতে, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর।
  5. স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি।
  6. আপনার মোবাইল নম্বর । সম্ভব হলে ইমেইল আইডি দেবেন।

তবে সকল ক্ষেত্রেই মনে রাখতে হবে যে, জিজ্ঞাসিত সকল তথ্য সঠিক দিতে হবে। কেননা পুলিশ ভেরিফিকেশনে আপনার দেওয়া তথ্যের ব্যতিক্রম পাওয়া গেলে
পাসপোর্ট পেতে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এ বিষয়টি সাবধানতার সাথে হ্যান্ডেল করতে হবে।

পাসপোর্ট অফিসে আবেদন ফর্ম জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া

অনলাইনে ফরম পুরুন ও টাকা জমা দেওয়ার পর নিজের বর্তমান ঠিকানা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে হলে রিজিওনাল অফিস আর সিটি কর্পোরেশনের বাইরে হলে আঞ্ছলিক অফিসে জমা দিতে হবে।
অবশ্য অনলাইনে জমা দিলে ফর্মেই লেখা থাকবে কোন অফিসে জমা দিতে হবে। এর পর সেখানে ফরম জমা নিয়ে কম্পিউটার সফট ওয়্যারে ফর্মের তথ্য গুলো নেবে তারপর ছবি তোলা ও বায়োমেট্রিকের জন্য আঙ্গুলের ছাপ নেওয়ার জন্য ফর্ম নিয়ে অন্য একটি রুমে যেতে হবে। এখানে বেশ কয়েকটি ধাপ আছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হতে মোটামুটি বেশ সময় লাগে। এছাড়া জমা দেওয়ার সিরিয়াল যদি দীর্ঘ হয় তাহলে সময় আরও বেশি লাগবে। সুতরাং জমা দিতে গেলে সকাল সকাল চলে যাওয়া উচিৎ।

পাসপোর্ট অফিসে সাথে কি নিয়ে যেতে হবে?

পাসপোর্ট করার আবেদন পত্র জমা দেওয়ার সময় সব সার্টিফিকেটের মূল কপি সাথে নিয়ে যাবেন। পাসপোর্ট অফিসে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১.৩০ টা পর্যন্ত পাসপোর্ট ফর্ম জমা নেয়।
তবে অবশ্যই আগে আগে যাওয়া ভালো কারন সাধারণত অনেক লম্বা লাইন থাকে। সাধারণত ফর্ম জমা নেওয়ার সময় কিছু প্রশ্ন করা হয় যার উত্তর যথেষ্ট আত্নবিশ্বাসের সাথে দেওয়ার চেষ্টা করবেন তবে সবসময় সঠিক তথ্য জানাবেন। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় ছবি তোলার জন্য সাদা রঙ বাদে অন্য কোনও রঙের কাপড় পড়ে যাবেন। অবশ্যই ফরমাল ড্রেসে যাবেন।
অনেক সময় ফর্ম জমা নেওয়ার সময় অযৌক্তিক প্রশ্ন করে বা কোনও কারণ ছাড়াই ফরম জমা নিতে চায় না। এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কোনও কর্মকর্তার সাথে কথা বললে সাহায্য পাবেন।

অনলাইন আবেদনের পর কি করবেন?

ফরমে উল্লিখিত সকল ডকুমেন্টের ইনফরমেশন অবশ্যই সঠিক হতে হবে। নামের বানানের ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। এক এক ডকুমেন্টে নামের বানান যেন ভিন্ন ভিন্ন না হয়। 
বিশেষ করে NID কার্ডের তথ্য গুলো যেন একই থাকে। তা না হলে পাসপোর্ট করার জন্য বাড়তি অনেক ঝামেলা হবে।

প্রাথমিক আবেদন সম্পন্ন হলে নিচে উল্লেখিত ডকুমেন্টগুলো নিয়ে স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে স্ব-শরীরে উপস্থিত হতে হবে।

  • অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি
  • এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
  • ব্যাংকের ফি জমা দেওয়ার রশিদ

কূটনৈতিক পাসপোর্ট আবেদন

  1. কূটনৈতিক পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার উইং (Consular and Welfare Wing) অথবা ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদনপত্র দাখিল করতে হবে।
  2. বৈদেশিক মিশন হতে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা হলে স্থায়ী ঠিকানার কলামে বাংলাদেশের যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

অতি জরুরী ই-পাসপোর্ট আবেদন

এবার জানুন অতি জরূরী পাসপোর্ট করার নিয়ম কি। নিচের নিয়ম গুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

  1. অতি জরুরী পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে (নতুন ইস্যু) নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ পূর্বক আবশ্যিকভাবে আবেদনের সাথে দাখিল করতে হবে।
    ক) দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ২ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
    (খ) দেশের অভ্যন্তরে জরুরী পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
    (গ) দেশের অভ্যন্তরে রেগুলার পাসপোর্ট প্রাপ্তির লক্ষ্যে আবেদনের সাথে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দাখিল করা হলে অন্যান্য সকল তথ্য সঠিক থাকা সাপেক্ষে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রদান করা হবে।
  2. আবেদনের সময় মূল জাতীয় ‍পরিচয়পত্র (NID), অনলাইন জন্ম নিবন্ধন (BRC) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল সনদ, সরকারি আদেশ (GO)/অনাপত্তি (NOC) প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  3. পাসপোর্ট রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্ট প্রদশন করতে হবে।
  4. হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে মূল জিডির কপি প্রদর্শন/দাখিল করতে হবে।
  5. ০৬ বছর বয়সের নিম্নের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩ আর (3R Size) সাইজের ( ল্যাব প্রিন্ট গ্রে ব্যাকগ্রউন্ড ) ছবি দাখিল করতে হবে।
  6. পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অথবা চুরি হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জানাতে হবে। নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুরাতন পাসপোর্টের ফটোকপি, জিডি কপিসহ আবেদন দাখিল করতে হবে ।

তথ্য সূত্রঃ
ইমিগ্রেশন ও বহিরাগমন শাখা ১ , সুরক্ষা সেবা বিভাগ , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়স্মারক নং ৫৮.০০.০০০০.০৪০.০১.০০৩.১৬-১২৩৪

ইংরেজিতে নতুন পাসপোর্ট করার নিয়ম

  • Fill the form correctly with all mandatory fields and click the “Save” button.
  • On successful completion of the first page, you will receive an email containing your Application ID and Password. Please preserve your Application ID and Password carefully for future print/view/modification of an application.
  • To submit your application, click the “submit” button. You are not allowed to modify anything after you click “submit”. also, receive an “Online Application Form” in pdf format. You have to report to the Passport Office for providing biometric data along with a printed version of the Online Application form.
  • After submission, the system will assign you to your authorized Regional Passport Office. Your application shall remain valid for 15 days from the date of submission. Your record will be removed automatically by the system after 15 days.
  • If Acrobat reader is unavailable in your computer, then download acrobat reader from here.

ই-পাসপোর্ট ফি পাসপোর্ট ফি সংক্রান্ত

ই-পাসপোর্ট আবেদন অনলাইনে দাখিল করার সময়ে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যাবে। পাসপোর্ট ফি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করা হবে। বাংলাদেশস্থ পাসপোর্ট অফিসের আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।

অনলাইন পেমেন্ট ছাড়াও ওয়ান ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া এবং ঢাকা ব্যাংকে নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবেই

আরও পড়ুন: অনলাইন আবেদন ফরমে কি কি তথ্য দিতে হয়?

ই-পাসপোর্ট আবেদন ফি কত?

মনে রাখবেন অনলাইন আবেদন ফরম পূরণ করার আগেই আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে নিচের কত খরচ এর পাসপোর্ট করতে চান।
অনেকেই প্রশ্ন করে পাসপোর্ট করার নিয়ম ও খরচ কত? তাদের জন্যই মূলত নিচের পাসপোর্ট করার খরচ উল্লেখ করা হল।

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছরের জন্য পাসপোর্ট করার খরচ

  • Regular delivery within 21 days: TK 4,025
  • Express delivery within 10 days: TK 6,325
  • Super Express delivery within 2 days: TK 8,625

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট করার খরচ

Regular delivery within 21 days: TK 5,750
Express delivery within 10 days: TK 8,050
Super Express delivery within 2 days: TK 10,350

৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছরের জন্য পাসপোর্ট করার খরচ

Regular delivery within 21 days: TK 6,325
Express delivery within 10 days: TK 8,625
Super Express delivery within 2 days: TK 12,075

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট করার খরচ

Regular delivery within 21 days: TK 8,050
Express delivery within 10 days: TK 10,350
Super Express delivery within 2 days: TK 13,800

কোন ব্যাংকে টাকা জমা দেবেন?

অনলাইন আবেদনের পর নিচের ব্যাংক গুলোতে টাকা জমা দিতে পারবেন।

  • সোনালি ব্যাংক
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক
  • ব্যাংক এশিয়া
  • ট্রাস্ট ওয়ান ব্যাংক
  • ঢাকা ব্যাংক
  • ওয়ান এশিয়া

বিকাশের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার পদ্ধতি

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে www.passport.gov.bd এর সাইটে সঠিক তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ করে শেষের দিকে বিভিন্ন ব্যাংকের গেটওয়ের মাধ্যমে
(যেমন ব্যাংকের কার্ড, বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে) পেমেন্ট করতে পারবেন। আর খুব সামান্য কিছু চার্জ ব্যাংক তাদের ফি হিসেবে কেটে রাখবে।
এ ক্ষেত্রে টাকা পে করার পর একটি চালান ফর্ম পাবেন। এই ফর্মটি এক পেজে দুইটা প্রিন্ট করে একটা নিজের জন্য ও অন্যটা পাসপোর্ট ফর্মের সাথে জমা দেবেন।

পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া

পুলিশ ভেরিফিকেশনে বেশির ভাগ সময় টাকা চাওয়া হয়। সরাসরি না হলেও পুলিশ আর ইঙ্গিতে আপনার কাছে টাকা চাইবে। ঝামেলা এড়াতে অনেকেই ১ থেকে ২ হাজার টাকা দিয়ে দেয়।
যদিও এই টাকা দেওয়াটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্য কিছু সময় দেখা গেছে প্রতারক চক্র আপনার তথ্য চুরি করে ফোন করে বলবে আমি অমুক পুলিশ অফিস থেকে বলছি,
আপনার পার্সপোর্ট ভেরিফিকেশনের জন্য দশ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দিন। অথচ সে ব্যাক্তি ভুয়া ব্যাক্তি। তাই সাবধান! সরাসরি দেখা করে প্রয়োজনে সিন্ধান্ত নিন।

পাসপোর্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড

নিচে পাসপোর্ট আবেদন ফরম ডাউনলোড pdf লিংক দেওয়া হল । আপনি চাইলে প্রিন্ট করে পুরন করে নিজের এলাকার পাসপোর্ট অফিসে জমা দিতে পারেন।
তাই নিজে নিজে পাসপোর্ট আবেদন করতে চাইলে নিচের কালো ডাউনলোড লিংক এ ক্লিক করে নিন।
না পেলে নিচের দেওয়া হোয়াটস আ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করে অনলাইন আবেদনটি করে নিতে পারেন।

পাসপোর্ট সম্পর্কে আরও পড়ুন:

প্রিয় পাঠক, আশা করি উপরের পাসপোর্ট করার নিয়ম ২০২৩ গুলো আপনার কাজে আসবে। উপরের তথ্য গুলো বাংলাদেশ সরকারের সরকারী ওয়েবসাইট থেকে
সংগ্রহ করা হয়েছে। তার পরও কিছু কিছু তথ্য আপডেট হতে পারে সে জন্য www.epassport.gov.bd এই ওয়েবসাইাটে ঘুরে আসতে পারেন।


লেখাটিতে উপকার পেয়েছেন? আবার পড়তে চান? তাহলে শেয়ার করুন।

1 thought on “পাসপোর্ট করার সঠিক নিয়ম ও ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন ২০২৩”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *