ফ্রান্সে পড়াশোনা: ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করুন নিজেই

শিল্প-সাহি্ত্যে কিংবা ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ফ্র্যান্স বিশ্বের নানা প্রান্তের লাখ লাখ শিক্ষার্থীর স্বপ্নভূমি।  প্রাচীন নিদর্শন কিংবা  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি খ্যাত এই দেশটির শিক্ষাব্যবস্থার মানও কিন্তু অনেক উন্নত। তাই তো, উচ্চশিক্ষা গ্রহণে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ফ্র্যান্স অন্যতম। উন্নত জীবনযাত্রার মান, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মস্নগস্থানের প্রাচুর্যতা ফ্র্যান্সে যাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রবলভাবে আকর্ষণ করে। প্রতিবছর বাংলাদেশী অনেক শিক্ষার্থীও কিন্তু উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমাচ্ছে ফ্র্যান্সে। আপনিও চাইলে ফান্ডিং বা স্কলারশিপ ম্যানেজ করে পাড়ি জমাতে পারেন ফ্র্যান্সে। তাই আজকের এই ভিডিওতে আমি আপনাদেরকে জানাবো, ফ্র্যান্সে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যাদি। অর্থাৎ কিভাবে ফান্ড পেতে পারেন, ভর্তির জন্য আবেদন কিভাবে করবেন, কি কি কাগজপত্রের দরকার হবে, ভিসা করতে করণীয় কি ইত্যাদি খুটিনাটি যাবতীয় বিষয়াদি সম্পর্কে। তাই শেষ পর্যন্ত আমার সাথেই থাকুন।

ফ্রেঞ্চ ডিগ্রীসমূহ

ফ্র্যান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ব্যাচেলর, মাস্টার্স, পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, পিএইচডি সহ প্রায় সব ধরনের প্রোগ্রামেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের চেয়ে গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি। অর্থাৎ গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা সহজেই স্কলারশিপ কিংবা এসিস্টেন্টশিপ ইত্যাদি ম্যানেজ করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এই সম্ভাবনা গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে অনেকাংশেই কম। যাই হোক, এবার আসি এই বিভিন্ন কোর্স বা প্রোগ্রাম কোনটিতে কত বছর সময় লাগে সে ব্যাপারে। এক্ষেত্রে ব্যাচেলর কোর্সের মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর হয়ে থাকে। আর মাস্টার্স কোর্সের মেয়াদ সাধারণত এক থেকে দুই বছর হয়ে থাকে। পিএইচডি প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর সময় লাগে। আর অন্যান্য প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে বলতে গেলে তা বিভিন্ন মেয়াদে পরিচালিত হয়। 

আর ফ্রান্সের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম সাধারণত ফ্রেঞ্চ ভাষায় পরিচালিত হয়। কেননা ফ্রেঞ্চ বিশ্বব্যাপী প্রায় ত্রিশ টিরও বেশি দেশের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃত। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতেও পাঠদান বা শিক্ষা কার্যক্রম থাকে। আপনি ফ্রেঞ্চ মাধ্যমে পড়াশোনা করবেন নাকি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করবেন এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ফ্রেঞ্চ মাধ্যমে পড়াশোনা করতে চাইলে ফ্রেঞ্চ ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। আর আপনি যদি ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে চান, তবে আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট ঘেটে ইংরেজিতে পরিচালিত কোর্স গুলো একটু কষ্ট করে খুঁজে বের করতে হবে।

কাজের সুবিধা ও স্থায়ী বসবাস

ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘন্টা কাজের অনুমতি পেয়ে থাকে। আর বছরের হিসেবে সর্বোচ্চ ৯৬৪ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি পেয়ে থাকে। তবে বড় কোনো বন্ধ অর্থাৎ সামার ভ্যাকেশন বা এই টাইপ ছুটির ক্ষেত্রে আপনি ফুলটাইম কাজ করতে পারবেন।

পড়াশোনাকালীন অবস্থায় আপনি মাসে প্রায় এক হাজার ইউরোর কাছাকাছি উপার্জন করতে পারবেন বলে আশ্বস্ত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে ফ্রেঞ্চ ভাষা ভালভাবে রপ্ত থাকলে আপনার ভালো কাজ পাবার সম্ভাবনা বেশি থাকবে, ফলে আয়ও বেশি থাকবে। আর ফ্রান্সে পড়াশোনা শেষ করার পর আপনি এক বছর চাকুরী খোঁজার জন্য সেখানে থাকার অনুমতি পাবেন। 

এবার আমি আপনাদের জানাবো, Plurennial Residence Card (Passeport Talent) সম্পর্কে। কি একটূ কাঠখোট্টা ব্যাপার মনে হচ্ছে? জট পাকানোর দরকার নেই, আমি আপনাদের সংক্ষেপে এই Passeport Talent সম্পর্কে জানাচ্ছি।  মূলত এই কার্ড আপনাকে তখনই দেওয়া হবে, যখন ফ্র্যান্স সরকার আপনার ভিতর অনন্য কোনো প্রতিভা খুঁজে পাবে। অর্থাৎ মেধাবী শিক্ষার্থীদের ফ্র্যান্সে ধরে রাখার জন্য এবং বিশেষ সুবিধা প্রদানের জন্য এই কার্ড দেওয়া হয়। 

এটি মূলত আপনাকে দেওয়া হবে যদি আপনি কোনো ইনোভেটিভ বিজনেস দাড় করান কিংবা গবেষণায়, ডিজাইনে, আর্টে বা এই ধরনের কোনো ক্রিয়েটিভ ক্ষমতার অধিকারী হন তখন। এই কার্ড পাবার সুবিধা হচ্ছে, আপনার কাছে এই কার্ড থাকলে আপনি আপনার পরিবার সহ চার বছর ফ্র্যান্সে থাকার এবং চাকুরী করার সুযোগ পাবেন। আর আপনি পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি বা পিআর এর জন্য আবেদন করতে পারবেন একটানা পাঁচ বছর বৈধভাবে ফ্র্যান্সে থাকার পর।

টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ

মূলত EEA এর অন্তর্ভুক্ত দেশগুলো থেকে ফ্র্যান্সে আসা শিক্ষার্থীদের খুব কম টিউশন ফি প্রদান করতে হয়। কিন্তু যেহেতু আমরা  EEA এর অন্তর্ভুক্ত দেশের নাহ, তাই আমাদের ক্ষেত্রে বেশ ভালো অঙ্কের টিউশন ফি প্রদান করা লাগে। ব্যাচেলর ডিগ্রীর ক্ষেত্রে টিউশন ফি সাধারণত পঁচিশ শত থেকে তিন হাজার ইউরো এর মতো হয়ে থাকে। মাস্টার্স ডিগ্রীর ক্ষেত্রে টিউশন ফি সাধারণত পয়ত্রিশ শত থেকে চার হাজার ইউরোর মতো হয়ে থাকে। আর ডক্টোরাল কোর্সের জন্য টিউশন ফি বাবদ প্রতিবছর প্রায় চারশত ইউরোর মতো প্রয়োজন হবে। 

পোল্যান্ডের সব বিশ্ববিদ্যালয়েই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেলে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। তবে আপনি চাইলে বাইরে বাসা ভাড়া নিয়েও থাকতে পারেন। কিন্তু বাইরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে গেলে আপনার খরচ একটু বেশিই পড়বে। এক্ষেত্রে ফ্রান্সে আপনার থাকা-খাওয়া বাবদ সাধারণত সবমিলিয়ে প্রায় চারশত থেকে ছয়শত ইউরোর মতো খরচ পড়বে। তবে শহরভেদে এই খরচের তারতম্য হয়ে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স নির্বাচন

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী অনেক বিখ্যাত কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্সটিটিউট রয়েছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৩৫০০ এরও বেশি সরকারী, বেসরকারী উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে ফ্র্যান্সে। তম্মধ্যে স্টেট ইউনিভার্সিটি রয়েছে ৮০ টি। এছাড়াও বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তো আছেই। আর এই সকল প্রতিষ্ঠানগুলো মানে সেরা। গ্লোবাল র‍্যাংকিংয়েও অনেক এগিয়ে।

তম্মধ্যে সেরা কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হলোঃ

  • Université Paris 6 Pierre and Marie Curie
  • Université de Bordeaux
  • Université Paris Sud (Paris XI)
  • École Normale Supérieure Paris
  • Université Claude Bernard Lyon 1
  • Université Denis Diderot Paris 7
  • Université de Strasbourg

আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কিংবা গ্র্যাজুয়েট পর্যায়ে ফ্র্যান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নানাবিধ ফিল্ডে পড়াশোনা করার বহু কোর্স চালু রয়েছে। তম্মধ্যে জনপ্রিয় কিছু ফিল্ড হলো, Pure Sciences Courses, Pharmacology,Information Technology, Fashion Designing, Business Management, Art, Economics, Film Studies, Data Science ইত্যাদি। এই ফিল্ডগুলোর আন্ডারে বিভিন্ন স্পেশাল কোর্স রয়েছে। যেগুলো আন্তর্জাতিক চাকুরী বাজারে যথেষ্ট চাহিদা সম্পন্ন।

স্কলারশিপ ও ফান্ডিং

ফ্রান্সে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক বিভিন্ন স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। এসব স্কলারশিপ আবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। কোনো কোনো স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার বিমান ভাড়া, যাবতীয় পড়াশোনার খরচ, থাকা-খাওয়ার খরচসহ প্রায় সব ধরনের খরচ মুক্ত থাকা যায়। অর্থাৎ আপনার কোনো ধরনের খরচেরই প্রয়োজন পড়বেনা। উলটো আপনি মাসিক ভাতাও পেতে পারেন। আবার কিছু কিছু স্কলারশিপের ক্ষেত্রে আপনার টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হবে। কোনোটিতে আবার টিউশন ফি এর কিছু অংশ ছাড় দেওয়া হয়।

ফ্রান্সের উল্লেখযোগ্য কিছু স্কলারশিপ হলোঃ

  • Ampère Excellence Scholarships for International Students
  • Eiffel Scholarships in France for International Students
  • ENS International Selection Scholarships
  • Emile Boutmy Scholarships for Non-EU Students at Sciences Po
  • Université Paris-Saclay International Master’s Scholarships

এছাড়াও আপনি রিসার্চ এসিস্টেন্ট কিংবা টিচার্স এসিস্টেন্ট হিসেবে এসিস্টেন্টশিপ ম্যানেজ করে ফান্ডিং বা গ্রান্ট নিয়েও আপনার পড়াশোনার খরচ বহন করতে পারেন। তবে এই এসিস্টেন্টশিপ কিংবা স্কলারশিপ সবকিছুতেই গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। অর্থাৎ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ফান্ড ম্যানেজ করা খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

আবেদনের সময়কাল 

ফ্র্যান্সে বছরে তিনটি করে সেমিস্টার হয়। এক্ষেত্রে প্রতি সেমিস্টার সাধারণত চার মাস করে হয়ে থাকে। আর ফ্র্যান্সে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয় সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে এবং শেষ হয় মে বা জুন মাসে। তাই প্রথম সেমিস্টারের ক্লাস সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর মাসে শুরু হয়। এভাবে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্লাস শুরু হয় জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারি মাসে এবং পরবর্তী সেমিস্টার শুরু হয় মে বা জুন মাসের দিকে।  এক্ষেত্রে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীকে সেশন শুরুর কমপক্ষে তিন মাস পূর্বেই আবেদন করতে হবে।

প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস ও যোগ্যতা

এবার তবে জেনে নেওয়া যাক, ফ্র্যান্সের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়ার জন্য আপনার কি ধরনের যোগ্যাতা থাকা লাগবে এবং আপনার কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন। এক্ষেত্রে,

  • ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কমপক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস হতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি ব্যাচেলর ডিগ্রীতে ভর্তি হতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ হতে হবে। এবং মাস্টার্সের প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রে আপনার যে কোন একটি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। আর ডক্টরাল বা পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির ক্ষেত্রেও আপনাকে যে কোন একটি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ হতে হবে। এক্ষেত্রে ভালো সিজিপিএ বা গ্রেড থাকা জরুরী। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে নুন্যতম রিকোয়ারমেন্ট বেসলাইন হিসেবে একটা গ্রেড নির্দিষ্ট করে দেয়।
  • আপনি যদি ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশোনা করতে ফ্র্যান্সে যেতে চান, তবে IELTS কিংবা TOEFL যেকোনো একটি ল্যাংগুয়েজ টেস্ট দিতে হবে। এক্ষেত্রে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য IELTS স্কোর ৫.০ থেকে ৫.৫ এর মতো থাকতে হবে, আর TOEFL এর ক্ষেত্রে স্কোর থাকা লাগবে সর্বনিম্ন ৫৫০। পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের জন্য IELTS স্কোর  সাধারণত ৬.০ এর মতো থাকতে হবে, আর TOEFL এর ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ৬০০ স্কোর থাকা লাগবে। আর আপনার কোর্স যদি ফ্রেঞ্চ ভাষায় হয়ে থাকে, তবে আপনাকে ফ্রেঞ্চ ভাষায় দক্ষতার প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে Alliance Francaise এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। আর ঐখান থেকেই ফ্রেঞ্চ ভাষার উপর কোর্স করতে হবে। 
  • ভর্তি আবেদনের ক্ষেত্রে ডকুমেন্টস হিসেবে আপনার প্রয়োজন পড়বে বিগত সকল একাডেমিক সার্টিফিকেটস, ট্রান্সক্রিপ্টস, IELTS/ TOEFL কিংবা ফ্রেঞ্চ ল্যাঙুয়েজ টেস্টের সার্টিফিকেট, এনআইডি বা জম্মসনদ, পাসপোর্টের কপি, রিজিউমি, মোটিভেশন লেটার, রিকোমেন্ডেশন লেটার। এছাড়াও ক্ষেত্রবিশেষ আরো কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হতে পারে।

অতঃপর এসব দিক বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যদি আপনাকে যোগ্য বলে বিবেচিত করে, তবে তাঁরাই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে আপনাকে জানিয়ে দিবে।

ভিসার জন্য আবেদনের নিয়মাবলী এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনার সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক করে নিজের কাছে রাখুন। অতঃপর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাওয়ার সাথে সাথেই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করে দিন। ভিসার জন্য প্রথমেই আপনাকে ফ্র্যান্সের এম্ব্যাসীর Cultural Attachee তে ই-মেইল করে এপয়ন্টমেন্ট নিতে হবে। অতঃপর নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সহ আপনাকে এম্ব্যাসীতে উপস্থিত হতে হবে। আর ঐ দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আরেকটি এপয়ন্টমেন্ট দেওয়া হবে। এভাবে  ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহের মতো সময় লাগবে। এক্ষেত্রে ভিসা ফি সাধারণত ৯৯ ইউরো হয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে এম্ব্যাসীতে আপনাকে ভিসা আবেদনের জন্য যেসকল কাগজপত্র জমা দিতে হবে, তা হলোঃ

আবেদন ফর্মটির সাথে আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি, বৈধ পাসপোর্ট, ফ্লাইট বুকিং টিকেট, অফার লেটার, সিভি বা রিজিউমি, একাডেমিক কাগজপত্র, IELTS সার্টিফিকেটের কপি, ভিসা এপ্লিকেশন পেমেন্ট ফি এর কপি, ব্যাংক সলভেন্সি ডকুমেন্টস, স্পন্সরের জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট কপি, হেলথ ইনসিওরেন্স ইত্যাদি। এক্ষেত্রে এম্ব্যাসীতে যোগাযোগ করে কাগজপত্রের চেকলিস্টটা দেখে নিবেন। কারণ প্রায় সময় এম্ব্যাসী তাদের চেকলিস্ট পরিবর্তন করে থাকে। তাই আরো অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্রেরও প্রয়োজন হতে পারে।

এবার আসি ব্যাংক সলভেন্সি ডকুমেন্টস এর ব্যাপারে। ফ্রান্সের ভিসা পাবার ক্ষেত্রে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দশ হাজার থেকে পনেরো হাজার ইউরোর মতো দেখাতে হয়। এক্ষেত্রে আপনি স্পন্সরের টাকা দেখাতে পারবেন। আর স্পন্সর যদি রক্তের সম্পর্কের কেউ হয়, তবে ভিসা পাওয়া তুলনামূলক সহজ। এক্ষেত্রে আপনি যখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অফার লেটার পাবেন, তখন এই টাকাটা ব্যাংকে রেখে এম্ব্যাসিতে দেখা করবেন। অতঃপর যখন আপনার ভিসা হয়ে যাবে, তখন এই টাকাটা তুলে ফেলতে পারবেন। আরেকটি ব্যাপার, ফ্রান্সে প্রবেশকালে ইমিগ্রেশনে যদি ব্যাংক সলভেন্সি সম্পর্কে জানতে চায়, তবে আপনাকে ব্যাংক সলভেন্সির নমুনা তখন সেখানে দেখাতে হবে।

পরিশেষে,

আশা করি, ফ্র্যান্সে উচ্চশিক্ষা ও স্কলারশিপ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়াদি সম্পর্কে আপনি পরিপূর্ণ ধারনা পেয়েছেন। এখন আপনার করণীয় হচ্ছে, ফ্র্যান্সের বিওশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওয়েবসাইট একটূ ঘাটাঘাটি করা। তাহলে আরো নানাবিধ খুটিনাটি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। এছাড়াও আপনার মনে যদি আরো কোনো প্রশ্ন থাকে, কমেন্ট বক্সে করে ফেলুন। আর বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত আরো বিভিন্ন তথ্য পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

লেখাটিতে উপকার পেয়েছেন? আবার পড়তে চান? তাহলে শেয়ার করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *