এমবিবিএস ভর্তি

এমবিবিএস ভর্তি দেশে বিদেশে

চায়না, রাশিয়া ও মালয়েশিয়ায়ার মেডিকেলে স্কলারশিপসহ এমবিবিএস ভর্তি হওয়া যায়। স্কলারশিপ না পেলে নিজস্ব অর্থায়নে এমবিবিএস ভর্তি হওয়া যায়।
এমবিবিএস ভর্তি বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের কাছে সোনার হরিণ । বিজ্ঞান বিভাগের প্রায় সকল ভালো শিক্ষার্থী মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে থাকে।
আমরা আলোচনা করব মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন নিয়ে। যদিও ভর্তি পরীক্ষা সামনে আসলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন আউট এই শিরোনামে
অনেক খবর প্রায় প্রতিবারেই শোন যায়। সে গুলোতে কান না দিয়ে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালোভাবে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
এই প্রবন্ধে মেডিকেল পড়াশোনার সকল বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি এটি পড়ার পর কখন, কোথায়, কিভাবে এবং কেন এমবিবিএস পড়বেন এ সকল প্রশ্নের জবাব পেয়ে যাবেন। আর জানবেন সরকারী ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা, সময় ও তারিখ ইত্যাদি।

এমবিবিএস কোর্সের সময়:

MBBS কোর্সটি ৫ বছর ব্যাপী একটি কোর্স। এরপর এক (১) বছর ইন্টার্নশিপ রয়েছে। তবে ইন্টার্নী করার সময় ডাক্তারগণ সরারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট ভাতা পেয়ে থাকেন।

MBBS এ যা পড়ানো হয় :

এর পূর্ণরূপ হল- Bachelor in Medicine & Bachelor is Surgery (MBBS) । ৫ বছর ব্যাপী MBBS কোর্সটিতে অ্যানাটমি, ফিজিওলজি ও বায়োকেমিষ্ট্রি, প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি ফরেনসিক মেডিসিন, কম্যুনিটি মেডিসিন, ফার্মাকোলজি, মেডিসিন, সার্জারী ও গাইনকোলজি ইত্যাদি বিষয় পড়ানো হয়।

চাকুরীর বাজারে MBBS এর চাহিদা:

সমাজে ডাক্তারদের চাহিদা সম্বন্ধে নতুন করে বলার কিছুই নেই। সেই অনাদিকাল থেকে ডাক্তারগণ সমাজের অবকাঠামোর অন্যতম চালিকাশক্তি হিসাবে টিকে আছেন। সমাজের সর্বত্রই ডাক্তারদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা হয় এবং সম্ভবত পেশাগত মর্যাদার দিক থেকে ডাক্তাররাই সবার চেয়ে এগিয়ে। এজন্যই ডাক্তারদের বলা হয় “The second God”. এই পেশায় একদিকে যেমন সম্মান রয়েছে অন্রদিকে হালাল উপায়ে পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জনেরও সুযোগ রয়েছে। একজন ডাক্তার শুধু MBBS ডিগ্রি নিয়েও এই সমাজে সম্মানের সাথে টিকে থাকতে পারেন।
এই অনার্স ডিগ্রি নেওয়ার পর একজন ডাক্তার যেমন সরাসরি চিকিৎসা সেবায় অংশগ্রহণ করতেপারেন এবং ক্লিনিক্যাল সেক্টরে উচ্চতর ডিগ্রি যেমন এম ডি/এম এস (চিকিৎসা শাস্ত্রে মাস্টার্স কোর্স) অথবা এফসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিসিয়ান এন্ড সার্জনস কতৃৃক প্রদত্ত এমআরসিপি (রয়েল কলেজ অব ইংল্যান্ড কর্তৃক প্রদত্ত) ইত্যাদি করার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হতে পারেন আবার এমবিবিএস করার পর বিভিন্ন নন ক্লিনিক্যাল সাবজেক্ট যেমন হেলথ ইকোনমিক্স, পাবলিক হেলথ, মাইক্রোবায়েলজি, এম্ভ্রায়োলজি, বায়োটেকনোলজি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, ইম্মুউনোলজি, বায়োক্যামেস্ট্রি ইত্যাদির মত অসংখ্য কোর্সে মাস্টার্স বা পিএইচডি করা যায়।

MBBS এর বিষয় রেটিং:

চাহিদার দিক থেকে MBBS শীর্ষে অবস্থান করছে। প্রতিবছর মেডিকেল কলেজগুলোতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি মেধাবী শিক্ষার্থীরা এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়। শুধু দেশেই নয় বিদেশেও এমবিবিএস পড়ার চাহিদা বেশি। যেমন, তুরস্কে এমবিবিএস, জার্মানিতে এমবিবিএস, ভারতে এমবিবিএস পড়া যায়। তবে বিদেশে ডাক্তারি করার জন্য বিদেশী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড় ভালো। কারণ অনেক দেশ বাংলাদেশের এমবিবিএস ডিগ্রি গ্রহণ করে না।

আরও পড়ুন: বিদেশে উচ্চশিক্ষা

এমবিবিএস ভর্তির জন্য স্কলারশীপ সমূহ:

মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে এ সংক্রান্ত বৃত্তির সংখ্যা নগন্য।
দেশে :
(ক) ডাচ বাংলা ব্যাংক বৃত্তি,
(খ) ইমদাদ সিতারা বৃত্তি,
(গ) ফেয়ার এন্ড লাভলি বৃত্তি (শুধুমাত্র মেয়েদের)।
বিদেশে :
(ক) মনোবুশো বৃত্তি (পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর জন্য),
(খ) কমনওয়েলথ বৃত্তি (পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর জন্য),
(গ) বৃটিশ কাউন্সিল বৃত্তি (পোস্ট গ্রাজুয়েশন এর জন্য)।

কোথায় পড়ানো হয়:
আমাদের দেশে বতৃমানে ১৪ টি সরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এর সবগুলোতেই MBBS কোর্স চালু রয়েছে। এচাড়া বেসরকারি পর্যায়ে অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ রয়েছে। এছাড়া সরকারি পর্যায়ে অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আসন সংখ্যা ২০৬০টি। ছাত্রদের পছন্দ ও মেধাস্থান অনুযায়ী কে কোন মেডিকেলে চান্স পাবে তা নির্ধারিত হয়।

আরো পড়ুন- প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি তথ্য ২০২১…

ভারতে মেডিকেলে উচ্চশিক্ষা

ভারতে এমবিবিএস বা মেডিকেল রিলেটেড পড়াশোনা বেশ উন্নত। অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পরীক্ষার প্রথম কয়েকটি অংশ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও দেওয়া যায়। যেমন MRCP , MRCS এর প্রথম দুটি অংশই কলকাতা থেকে দেওয়া যায়। এছাড়া PLAB -এর প্রথম অংশ বাংলাদেশে, দ্বিতীয় অংশ কলকাতায় দেওয়া যায়। এই সকল ইন্টারন্যাশনাল ডিগ্রি নেওয়ার সুবিধা হল এই যে, এই ডিগ্রি নেবার পর ডাক্তারগণ বিশ্বের যেকোন দেশে ডাক্তারি করতে পারবেন। এমবিবিএস ও ইন্টার্নী করার পর ক্লিনিক্যাল বিষয়গুলোতে বিদেশে স্কলারশীপ খুবই নগণ্য। তবে কয়েক বছর ট্রেইনিং থাকলে পৃথিবীর ভিন্ন বড় বড় হাসপাতালে অব সারডারশীপ ও পরবর্তীতে ফেলোশীপ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু নন-ক্লিনিক্যাল বিষয় বা গবেষণার জন্য খুব সহজেই স্কলারশীপ পাওয়া যায় এবং এক্ষেত্রে গবেষকের জন্য খুব লোভনীয় চাকরির সুযোগ রয়েছে।

কিরগিজস্থানে এমবিবিএস

কম খরচে কিরগিজস্থানে MBBS পড়ার সুযোগ দিচ্ছে কিরগিজস্থান। একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট জন্য চায়না, রাশিয়া, ইউক্রেন, কিরগিজস্থান, উজবেকিস্থান,
ইন্ডিয়া, ইউরোপ এ পড়াশোনার সুযোগ আছে। তবে আমার মতে কম খরচে ভালো মানের এমবিবিএস ডিগ্রী নিতে চাইলে কিরগিজস্থান খুব ভালো।
কেন কিরগিজস্থান এমবিবিএস এর জন্য ভালো? জানতে নিচের পুরো ভিডিওটি ভালো করে দেখুন প্লিজ।

এমবিবিএস পাশের পর চাকুরির সুবিধা:

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তারগণের জন্য চাকুরির সুবিধা আছে। এছাড়া ডাক্তারগণ ইচ্ছা করলে বিসিএস-এর মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে সরকারি ক্যাডারভুক্ত হয়ে চাকুরি করতে পারেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও তারা পয্যাপ্ত চাকুরির সুবিধা পাবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান-জাতিসংঘ, WHO, CARE ইত্যাদিসহ অন্যান্য মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ডাক্তারগণের জন্য চাকুরির ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশ থেকে পাশ করা বহু ডাক্তার এখন বিদেশে চাকুরিতে আছেন।

বিদেশে এমবিবিএস MBBS পড়াশোনা:

এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই যেকোন ছাত্র-ছাত্রী ইচ্ছা করলে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায়, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারে। বিদেশে ডিগ্রি নেবার ক্ষেত্রে “রয়াল ইউনিভার্সিটি অব ইংল্যান্ড” সবার চেয়ে এগিয়ে। এখান থেকে FRCS অথবা MRCP ডিগ্রি নিতে পারলে বিশ্বব্যাপী এর স্বীকৃতি রয়েছে। এছাড়া এডিনবার্গ, গ্লাসগো ও আমেরিকা, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকেও ডিগ্রি নেওয়া যায়। তবে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় এমবিবিএস পড়াশোনার আগ্রহ দিন দিন বেড়ে চলেছে। কারণ এখানে বাংলাদেশীদের জন্য কম খরচে তুলনামূলক সুবিধা বেশি পাওয়া যায়। মাসা ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কিছু মালয়েশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিএমডিসি কতৃক এ্যাপ্রুভ।
আর মাশা ইউনিভার্সিটি তে প্রচুর বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিএমডিসি নীতিমালা (বিদেশে MBBS)

  • যে বছর বা সেশনের বাংলাদেশের মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষায় যে পয়েন্ট লাগে, তাকে SSC+HSC (বিজ্ঞান বিষয়ে) সম পয়েন্ট থাকতে হবে।
  • বিএমডিসি অফিস থেকে ফরেইন স্টাডির বৈধ সার্টিফিকেট বা ইল্লিজিবিটি সার্টিফিকেট নিতে হবে।
  • যে দেশে পড়তে যাচ্ছেন বা যে মেডিকেল কলেজে পড়তে যাচ্ছেন, সেই মেডিকেল কলেজ বিএমডিসির লিস্টেট বা অনুমোদন আছে কিনা সেটা জেনে নিবেন।

আরও পড়ুন:

মিশর, তুরুষ্ক, উজবেকিস্থান, রাশিয়া সহ পৃথীবির অনেক দেশে তুলনামূলক কম টাকায় এমবিবিএস করার সুযোগ থাকে।


স্টুডেন্ট ভিসা বিষয়ে প্রশ্ন থাকলে নিচের লাইনটি ফলো করুন। সেবারু ডটকম (shebaru.com) আপনার পাশে আছ সবসময়।
এই লিংক গুলোতে ক্লিক করুন: স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রি পরামর্শ ফরম।। স্টুডেন্ট ভিসা ফেসবুক গ্রুপ।। ইউটিউব চ্যানেল।। সরাসরি যোগাযোগ
Mobile & What’s App: +8801711981051 / What’s app (10 am-9pm)। এই সময়ের মধ্যে কল করুন প্লিজ।

লেখাটিতে উপকার পেয়েছেন? আবার পড়তে চান? তাহলে শেয়ার করুন।

3 thoughts on “এমবিবিএস ভর্তি দেশে বিদেশে”

  1. আমি বিদেশের বিশেষ করে জার্মানি,কানাডা, তুরস্কে মেডিকেল এ পড়তে চাই।কিভাবে আবেদন করব বা একটু দিকনির্দেশনা দরকার।

    1. প্রিয় ফারভেজ আপনি দয়া করে উপরে ঠিকানায় সরাসরি যোগাযোগ করুন। আশা করি আপনার কাঙ্খিত সমাধান পাবেন।প্রশ্ন করার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *